Saturday, 12 June 2021

পৃষ্ঠটান ( Surface tension )



তরল মাএই একটি বিশেষ ধর্ম আছে, তরল পৃষ্ঠ সর্বদাই সঙ্কুচিত হয়ে সর্বনিম্ন ক্ষেএফলে আসতে চায়। তরলের মধ্য যে বিশেষ বলের প্রভাবে এই ধর্ম প্রকাশ পায় তাকে পৃষ্ঠটান বলে।

সংজ্ঞা : কোন তরলের পৃষ্ঠে একটি সরলরেখা কল্পনা করলে উক্ত রেখার প্রতি একক দৈর্ঘ্যে উভয় পাশ্বে যে স্পশিনী বল ক্রিয়া করে তাকে পৃষ্ঠটান বলে।


ব্যাখা :

ধরি,
কোন একটি তরলের মুক্ত পৃষ্ঠরর উপর অঙ্কিত একটি রেখার দৈর্ঘ্য L, ঐ সরল রেখার উভয় পাশ্বে তরল সংকুচিত হতে চাইবে এবং পরষ্পর হতে দূরে সরে যেতে চাইবে। তাই BC রেখার উপর প্রতি একক দৈর্ঘ্যে একটা টান পড়বে। ধরি, ওই রেখার অভিলম্বভাবে ও পৃষ্ঠের স্পর্শক রেখার উভয় পার্শে বিদ্যামান বল F.

তাহলে, পৃষ্ঠটান = বল ÷দৈর্ঘ্য

T = F/L

★ পৃষ্ঠটানের একক :

পৃষ্ঠটটান একটি প্রকৃতিক রাশি। MKS বা SI বা আন্তর্জাতিক একক হচ্ছে নিউটন /মিটার।

★ পৃষ্ঠটানের বৈশিষ্ট্য :

তরলের পৃষ্ঠটানের নিম্নলিখিত দুটি বৈশিষ্ট রয়েছে:

ক. পৃষ্টটান তরলকে সংকুচিত করার চেষ্টা করে।

খ. তরলের ক্ষেএফল বাড়ানোর চেষ্টা করলে পৃষ্ঠটান প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে।

★ পৃষ্ঠটানের উপর প্রভাবকারী বিষয় :

ক. দূষিতকরন : তরল যদি চর্বি, তেল প্রভৃতি  দ্বারা দূষিত হয়, তাহলে তরলের পৃষ্ঠটান হ্রাস পায়।

খ. দ্রবীভূত বস্তুুর উপস্থিতি : তরলে কোন বস্তু দ্রবীভূত থাকলে তরলের পৃষ্ঠটান হ্রাস পায়। তরলে অজৈব পদার্থ দ্রবীভূত থাকলে পৃষ্ঠটান বৃদ্ধি পায়, কিন্তুু জৈব পদার্থ থাকলে পৃষ্ঠটান হ্রাস পায়।

গ.তাপমাত্রা : তরলের পৃষ্টটান অনেকভাবে তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল। তাপমাএা বৃদ্ধি পেলে পৃষ্ঠটান হ্রাস পায়ে এবং তাপমাএা হ্রাস পেলে পৃষ্ঠটান বৃদ্ধি পায়।।

তাপমাত্রা ও পৃষ্ঠটানের মধ্যে সম্পর্ক হলো :
T = T' ( 1 - αt ) 

এখানে, T হলো t degree সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তরলের পৃষ্ঠটান,  T' হলো 0 degree  সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তরলের পৃষ্ঠটান এবং α তরলের তাপমাত্রা গুণাঙ্ক।

যে তাপমাত্রায় কোন একটি তরলের পৃষ্ঠটান শূন্য হয়, তাকে সংকট তাপমাত্রা (Critical temperature) বলে।

 ★ তরলের উপরে অবস্থিত মাধ্যম :

তরলের উপরে অবস্থিত মাধ্যমের উপর তরলের পৃষ্ঠটান নির্ভর করে।  পানির সাথে জলীয়বাষ্প থাকলে পৃষ্ঠটান হয় 70 আর তরলের সাথে বায়ুর সংস্পর্শ থাকলে পৃষ্ঠটান হয় 72।
★ তরলের মুক্ততলের সাথে অন্যকোন বস্তুুর উপস্থিততি : 
তরলের মুক্ত তলের সাথে অন্যকোন বস্তির সংযুক্তি হলে পৃষ্ঠটান হ্রাস পায়।

★ তড়িতাহিতকরন : 
তরল তড়িতাহিত হলে পৃষ্ঠটান হ্রাস পায়। কেননা তড়িতাহিত হবার ফলে তরলের পৃষ্ঠে বর্হিমুখি চাপের সৃষ্টি হয়। এর ফলে তরল পৃষ্ঠের ক্ষেএফল বৃদ্ধি পায়। কাজেই পৃষ্ঠটান হ্রাস পায়। 

Labels:

Tuesday, 8 June 2021

অ্যালকিন প্রস্তুতি (Preparation of Alkin)





অ্যালকিন  চেনার উপায়:
আনবিক সংকেত আকারে অ্যালকিন চেনার উপায় হচ্ছে কার্বন সংখ্যার দ্বিগুন হাইড্রোজেন থাকবে। অ্যালকিনের অপর নাম হচ্ছে ইথিলিন।

CnH2n

গাঠনিক সংকেত আকারে অ্যালকাইন চেনার উপায়:
কমপক্ষে একটি কার্বন- কার্বন  দ্বি বন্ধন থাকবে। 

অ্যালকিন প্রস্তুতি :

অ্যালকাইল হ্যালাইড থেকে হ্যালাইড অপসারণ :

অ্যালকাইল হ্যালাইডের সাথে অ্যালকোহলীয় KOH  উওপ্ত করলে বিকিয়ায় অ্যালকিন উৎপন্ন হয়। যেমন:



ডাই হ্যালাইড থেকে হ্যালাইড অপসারণ :

ভিসিনাল ডাই হ্যালাইড থেকে হ্যালাইডের অপসারন :

ভিসিনাল ডাই হ্যালাইড মানে অ্যালকাইল মুলকের পাশাপাশি দুই কার্বনে দুটি হ্যালোজেন থাকবে। একে Zn চূর্ণ  সাথে বিক্রিয়া করালে হ্যালাইড অপসারনের মাধ্যমে অ্যালকিন উৎপন্ন হয়। যেমন :


 ★ চুনাপাথর থেকে অ্যালকিন প্রস্তুতি :

চুনাপাথর মানে ক্যালসিয়াম কার্বোনেটকে 1000 degree সেলসিয়াস  তাপমাত্রায় উওপ্ত করলে তা থেকে ক্যালসিয়াম  অক্সাইড ( চুন)  ও কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হবে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে চলে যাবে যার ফলে বিক্রিয়াটি এক মুখি হয়ে যাবে। তারপর চুনের সাথে কয়লা মানে কার্বন মিশিয়ে 2000 degree সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উওপ্ত করলে ক্যালসিয়াম কার্বাইড উৎপন্ন হবে। তারপর ক্যালসিয়াম কার্বাইডের সাথে আস্তে আস্তে ফোটায় ফোটায় পানি যোগ করলে ইথিন উৎপন্ন হবে। 


★ প্রকৃতিক গ্যাস থেকে অ্যালকিন :

প্রকৃতিক গ্যাস বলতে মিথেনকে বোঝায়। তাই মিথেনকে 1500 degree সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উওপ্ত করলে ইথিন ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। যেমন:



★ অ্যালকিনের অসম্পৃক্ততা পরীক্ষা :

১.ব্রোমিন সংযোজন :

ব্রোমিন হলো লাল বর্নের একটি পদার্থ। অ্যালকিনের সাথে  ব্রোমিনের সংযোজন বিক্রিয়ায় ব্রোমিনের লাল বর্ণ অপসারিত হয়। কারন যখন ব্রোমিন অনু অবস্থায় ছিল তখন ব্রোমিনের বর্ণ ছিল লাল কিন্তু যখন বিক্রিয়া করার পর পরমানু অবস্থায় আছে তখন ব্রোমিনের লাল বর্ণ অপসারিত হয়। এর মাধ্যমে অ্যালকিনের অসম্পৃক্ততা প্রমান করা হয়। যেমন:


২. বেয়ার পরিক্ষা : 

ক্ষারীয় পরিবেশে পটাশিয়াম পার ম্যাঙ্গানেটের সাথে পটাশিয়াম হাড্রোক্সাইডের বিক্রিয়ায় জায়মান অক্সিজেন ও পানি উৎপন্ন হয়। সেই জায়মান ও পানি দ্বারা ইথিনকে জারিত করলে গ্লাইকল উৎপন্ন হয়। যার মাধ্যমে  পটাশিয়াম পার ম্যাঙ্গানেটের গোলাপি বর্ণ অপসারিত হওয়ার মাধ্যমে অ্যালকিনের অসম্পৃক্ততা প্রমান হয়। 


★ অ্যালকিনের পলিমারকরন :

অ্যালকিনের পলিমারকরন জানতে হলে প্রথমেই জানতে হবে পলিমারকরন বিক্রিয়া কি? 
পলিমারকরন বিক্রিয়া হলো  অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনু মিলে একটি উচ্চ শিকল বিশিষ্ট বৃহৎ  অনু গঠিত হয় একে পলিমারকরন বিক্রিয়া। এতে বিক্রিয়ককে বলা হয় মনোমার এবং উৎপাতকে বলা হয় পলিমার। যেমন :


ইথিন এর পলিমারকরন বিক্রিয়ায় পলিথিন উৎপন্ন হয়। তবে এই বিক্রিয়ার কিছু শর্ত আছে,   1000 - 1200 atm চাপ, 100 - 200 degree সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং অক্সিজেন এর উপস্থিতিতে এই বিক্রিয়া করা হয়।

★ অ্যালকাইন থকে অ্যালকিন :

আমরা জানি,
অ্যালকাইনে কার্বন কার্বন এি বন্ধন থাকে। তাই অ্যালকিন উৎপন্ন করতে চাইে এর সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করতে হবে। কিন্তু শর্ত হচ্ছে Ni,Pt প্রভাবকের উপস্থিতিতে  180 - 200 degree সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উওপ্ত করতে হবে।


★ ওজনীকরন বিক্রিয়া :

অ্যালকিনের সাথে ওজন গ্যাসের বিক্রিয়ায় বিভিন্ন উৎপাত সৃষ্টি হয়। বিক্রিয়ায় অ্যালকিনকে প্রথমে CCl4 দ্রাবকে বিক্রিয়া করানো হয় তারপর ওজোনাইড গ্যাস উৎপন্ন। একে জিংক ও পানির সাথে উওপ্ত করলে। বিভিন্ন উৎপাত সৃষ্টি  হয়। বিক্রিয়াগুলো নিচে দেওয়া হলো:



Labels:

Wednesday, 2 June 2021

মার্কনিকভের নীতি ( Markownikov's rules )



রাশিয়ান বিজ্ঞানী মার্কনিভ অপ্রতিসম দুটি যৌগের বিক্রিয়া করে দেখেন যে দুটি যৌগ উৎপন্ন হয়। এ দুটি যৌগের মধ্যে কোনটি প্রধান উৎপাত তা আমরা এই নীতির আলোকে সহজেই বলতে পারি।

★ তার আগে অপ্রতিসম অ্যালকিন বা অ্যালকাইন কি?

অপ্রতিসম অ্যালকিন বা অ্যালকাইন হচ্ছে যে যৌগে একই সাথে একক বন্ধন ও দ্বি বন্ধন বা এি বন্ধন থাকে বা কার্বন কার্বন দ্বি বন্ধনের দুই কার্বনে হাইড্রোজেন সংখ্যার পার্থক্য থাকে। তাহলে ইথিন কেন অপ্রতিসম অ্যালকিন নয় বুঝতেই পারছ।

★ এবার আসি অপ্রতিসম বিকারক কী?

অপ্রতিসম বিকারক হচ্ছে সেইসব যৌগ যেসব যৌগে ঐ মৌল ব্যাতীত অন্য মৌলও থাকবে। যেমন :
Cl 2 একটি প্রতিসম যৌগ কিন্তুু HCl একটি অপ্রতিসম যৌগ।

তার নীতিটি হচ্ছে :

অপ্রতিসম জৈব যৌগের সাথে অপ্রতিসম বিকারকের যুৎ বা সংযোজন বিক্রিয়ার বিকারকের ধনাত্মক অংশ কার্বন কার্বন দ্বি বা এি বা পাই বন্ধনের ঐ কার্বনে যুক্ত হবে যে কার্বনের হাইড্রোজেন সংখ্যা বেশি।

এটি যেন ঠিক, তেলে মাথায় তেল দেওয়ার মতো। যে কার্বনে হাইড্রোজেন বেশি আছে সেই কার্বনে আবার হাইড্রোজেন বা ধনাত্মক অংশ যুক্ত হবে।

আবার অন্যভাবে,

অপ্রতিসম জৈব যৌগের সাথে অপ্রতিসম বিকারকের যুৎ বা সংযোজন বিক্রিয়ার বিকারকের ঋনাত্বক অংশ কার্বন কার্বন দ্বি বা এি বা পাই বন্ধনের ঐ কার্বনে যুক্ত হবে যে কার্বনের হাইড্রোজেন সংখ্যা কম। তাহলে তার বিক্রিয়াটি হচ্ছে :


এখানে,
দুটি উৎপাত উৎপন্ন হয়েছে যার একটি 1 - ব্রমো প্রোপেন ও 2- ব্রমো প্রোপেন।
এখন আসি বিক্রিয়ার প্রধান উৎপাত কোনটি হবে এবং কেন?

এখানে,
২ - ব্রমো ইথেন হবে প্রধান উৎপাত কারন এটি বেশি পরিমাণে উৎপন্ন হবে ৯০% . তোমরা নিশ্চয় কার্বো ক্যাটায়ন কি শুনেছ, যেখানে 3 degree বেশি সক্রিয় এবং মিথিলিন মুলক কম সক্রিয়। এদের সক্রিয়তা ক্রম হচ্ছে :

3 degree › 2 degree › 1 degree › CH+

এখানে,
১- ব্রমো প্রোপেন মানে 1 degree এর চেয়ে ২ - ব্রমো প্রোপেন মানে ২ degree বেশি সক্রিয় তাই  1 - ব্রমো প্রোপেন চেয়ে 2- ব্রমো  প্রোপেন বেশি উৎপন্ন হয়। তাই এটি প্রধান উৎপাত।

Labels: