Friday, 29 January 2021

টাইট্রেশন (Titration)


টাইট্রেশন হলো কোন জানা দ্রবনের সাথে অজানা দ্রবনের ঘনমাএা নির্নয় করার পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে দুটি দ্রবন ব্যাবহার  করা হয়।

১. প্রমান দ্রবন বা জানা দ্রবন বা জ্ঞাত দ্রবন
২. পরীক্ষাধীন দ্রবন বা অজানা দ্রবন  বা অজ্ঞাত দ্রবন

★ প্রমান দ্রবন : যে দ্রবনের ঘনমাত্রা জানা থাকে তাকে প্রমান দ্রবন বলে।
★ পরীক্ষাধীন দ্রবন : যে দ্রবনের ঘনমাত্রা বের করতে তাকে পরীক্ষাধীন দ্রবন বলে।

 
★ প্রয়োজনীয় উপকরণ ':
বুরেট, পিপেট, ক্লিনিক্যাল ফ্লাক্স এবং নির্দেশক।

কার্যক্রম : প্রথমত প্রমান দ্রবনকে বুরেটের মাঝে নিতে হবে।  তারপর পিপেটের সাহায্যে পরীক্ষাধীন দ্রবনকে পিপেটের সাহায্যে ক্লিনিকাল ফ্লাক্সে রাখতে হবে। তবে এখানে পিপেটের সাহায্যে পরীক্ষাধীন দ্রবনকে নেওয়ার ক্ষেএে মুখ দিয়ে পরীক্ষাধীন দ্রবনকে টানতে হয় ফলে পরীক্ষাধীন দ্রবনটি মুখে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে আর যদি পরীক্ষাধীন দ্রবনটি যদি এসিড হয় তবে কী ভয়ানক অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। তবে বর্তমানে ল্যাবরেটরিতে আরো আধুনিক পিপেটে ব্যাবহার করা হয় যাতে মুখ দিয়ে টানলেও মুখে তা মুখে আসবে না । এরপর বুরেটের প্রমান দ্রবনকে ধীরে ধীরে ক্লিনিকাল ফ্লাক্সে নিতে হবে এবং নির্দেশক যোগ করতে হবে।  বিক্রিয়াটি যদি সম্পন্ন হয় তবে এর বর্ন পরিবর্তন হবে বা বর্ন বিবর্ণ হবে। এখন,  প্রমান দ্রবনের ঘনমাত্রা ও আয়তন জানা আছে। আর পরীক্ষাধীন দ্রবনের বুরেটের পাঠ নিয়ে এর আয়তন জানা আছে। এ থেকে সহজেই অজানা দ্রবনের ঘনমাত্রা নির্নয় করা যায় নিম্নের সূএের সাহায্যে,

      SV =  S'V'

 ★ টাইট্রেশন সম্পর্কিত  কতগুলো পদ :

    1. টাইট্রান্ট বা টাইটার : টাইট্রেশন করার সময় যে দ্রবনের ঘনমাত্রা জানা থাকে বা প্রমান দ্রবনকে টাইট্রান্ট বা টাইটার বলে। এটি বুরেটে নেওয়া হয়।

2. টাইট্রেট বা টাইট্র্যান্ড : টাইট্রেশন করার সময যে দ্রবনের ঘনমাত্রা অজানা থাকে তাকে  টাইট্রেট বা টাইট্র্যান্ড বলে।  এটি ক্লিনিকাল ফ্লাক্সে নেওয়া হয়।

3. প্রমান দ্রবনের প্রকারভেদ :

a. প্রাইমারী বা মুখ্য প্রমান দ্রবন :

          প্রাইমারী স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট আয়তনের প্রস্তুুতকৃত দ্রবনকে  প্রাইমারী বা মুখ্য প্রমান দ্রবন বলে।

b. সেকেন্ডারি বা গৌন প্রমান দ্রবন :

          সেকেন্ডারি পদার্থ ব্যাবহার করে যে দ্রবন তৈরি করা হয় তাকে সেকেন্ডারি বা গৌন প্রমান দ্রবন বলে।

প্রমান দ্রবন দ্বারা দ্রবনে বিজারক পদার্থের পরিমাণ নির্নয় বা জারক পদার্থ দ্বারা বিজারক পদার্থের পরিমাণ নির্নয় করা হয়। 



★  বন্দি  পাঠশালার প্রিমিয়াম কোর্স ফ্রিতে  watch & Download  করতে এখানে ক্লিক কর,,,,,, 

Labels:

Monday, 18 January 2021

Electric Potential & Intensity। তড়িৎক্ষেএের বিভব ও প্রাবাল্য



তড়িৎ বিভব জানতে হলে প্রথমেই যে বিষয়টি জানতে হবে তা হলো তড়িৎক্ষেএ।
তড়িৎক্ষেএ হচ্ছে কোন একটি চার্জিত বস্তুু যে অঞ্চল জুরে এর প্রভাব বিস্তার করে তাকে তড়িৎক্ষেএ বলে। তড়িৎক্ষেএের মধ্যে অন্যকোন  চার্জিত বস্তুু আনলে তার উপর তড়িৎ বল ক্রিয়া করে। তবে তাও্বিকভাবে কোন চার্জিত বস্তুুর তড়িৎক্ষেএ অসীম পর্যন্ত বিস্তৃত।
অসীম দূর থেকে একক চার্জকে তড়িৎক্ষেএের কোন বিন্দুতে আনতে যে কাজ সাধিত হয় তাকে ঐ বিন্দুর তড়িৎ বিভব বলে। তড়িৎ বিভবকে V দ্বারা সূচিত করা হয়।  তড়িৎ বিভব একটি স্কোলার রাশি। কারন এখানে কৃতকাজের পরিমাণকেই বিভব বলে। কাজ একটি স্কোলার রাশি তাই তড়িৎ বিভবও একটি স্কোলার রাশি। 

ধরি,
অসীম দূর থেকে q পরিমাণ চার্জকে তড়িৎক্ষেএের কোন বিন্দুতে নিয়ে আসতে W পরিমাণ কাজ করতে হয়। তবে, ঐ বিন্দুর তড়িৎ বিভব,
     
    V = W/q

তড়িৎক্ষেএের বাইরে বা কোন চার্জিত বস্তুু থেকে অসীম দূরে কোন বিন্দুতে ঐ চার্জের জন্য বিভব শূন্য। বিভের  S.I. একক ভোল্ট V.
তাই অসীম দূর হতে এক কুলম্ব ধনাত্মক চার্জকে তড়িৎক্ষেএের কোন বিন্দুতে আনতে যদি কৃতকাজের পরিমাণ এক জুএ হয় তবে ঐ বিন্দুর বিভব হবে এক ভোল্ট। ধনাত্মক চার্জ উচ্চ বিভব থেকে নিম্ন বিভবের দিকে এবং ঋণাত্মক চার্জ নিম্ন বিভব থেকে উচ্চ বিভবের দিকে গমন করে। একটা উদাহরণ দেওয়া যাক,

ধর, একটা পুকুর ও একটি জমি আছে পুকুরে স্বাভাবিকভাবেই পানি বেশি আছে।  আর জমিতে পনি কম আছে। কিন্তুু পুকুর আর জমির মাঝে কেটে দিলে কোনদিকে পানি যাবে?  এটা পানির পরিমাণের উপর  নির্ভর কর না নির্ভর করে পনিে উচ্চতার উপর। জমিতে পানি কম থাকলেও উচ্চতা বেশি হলে পুকুরে সেই পানি যাবে।  ঠিক সেরকমই দুটি চার্জিত বস্তুুকে কোন পরিবাহী দ্বারা যুক্ত করলে তাদের মধ্যে চার্জের যে আদান-প্রদান হবে তা চার্জের পরিমাণের উপর নির্ভর করবে না নির্ভর করবে তড়িৎ বিভের উপর।

তড়িৎক্ষেএের কোন বিন্দুতে একটি ধনাত্মক চার্জ স্থাপন  করলে এর উপর ক্রিয়াশীল বলকেই  ঐ বিন্দুর তড়িৎ প্রাবাল্য বা তীব্রতা বলে। একে E দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

তড়িৎক্ষেএের কোন বিন্দুতে যদি q পরিমাণ চার্জ স্থাপন করি আর তার উপর ক্রিয়াশীল বল F হলে। এর তড়িৎ  প্রাবাল্য,
   E = F/q
তড়িৎক্ষেত্র  একটি ভেক্টর রাশি কারন বলের দিকই প্রাবাল্যর দিক। 

Labels:

Sunday, 3 January 2021

গ্যাসের আনবিক গতিতত্ত্ব ( Kinetic theory of gases)




বিজ্ঞানীরা গ্যাসের ভৌতধর্মের কথা ভেবে এর সমাধান স্বরূপ গ্যাসের আণবিক গতিতত্ত্বের সাহায্যে এসব গ্যাসের সূএের ব্যাখা দিয়েছেন। এক্ষেত্রে বিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েল ও বোল্টজম্যানের অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। 

গ্যাসের আনবিক গতিতত্ত্বের স্বীকার্যগুলো নিম্নে দেওয়া হলো :
1. গ্যাসের গঠন :
                    যেকোন গ্যাস অসংখ্য ক্ষুদ্র কনিকা যেমন পরমানু বা অনু নিয়ে গঠিত। এসব কনিকা বা অনু দ্রুতগতিতে সরলরৈখিক পথে সবদিকে ছোটাছুটি করে।

2. গ্যাস অনুসমূহের আয়তন :
                 গ্যাস অনুগুলোর মোট আয়তন গ্যাসাধারের বা গ্যাস পাএের মোট আয়তনের তুুলনায় নগন্য বা নেই বললে চলে, গ্যাসের মোট আয়তনের অধিকাংশ স্থানই খালি।

3. গ্যাস অনুসমূহের মধ্যে আকর্ষণ ও বিকর্ষণ :
                 গ্যাস অনুগুলোর মধ্যে পারষ্পারিক কোন আকর্ণন বা বিকর্ষণ নেই, তারা পরষ্পর প্রভাবমুক্ত বা স্বাধীন।  এই আদর্শ গ্যাসের ক্ষেএে গ্যাসাধারের বা গ্যাস পাএের সাথে গ্যাসের কোন আকর্ষন থাকে না।

4. আন্তঃআনবিক সংঘর্ষ ও প্রকৃতি :
                       গ্যাস অনুগুলোর মধ্যে পরষ্পরের সাথে বা পাএের দেয়ালের সাথে সংঘর্ষ ঘটে, তখন ঐ সংঘর্ষগুলো সম্পূর্ণ স্থিতিস্থাপক হয় অর্থাৎ তাদের গতিশক্তি অভ্যন্তরীণ বা অন্যকোন শক্তিতে রুপান্তরিত হয় না। নিদিষ্ট তাপমাত্রায় (T) গ্যাসের অনুগুলোর মোট গতিশক্তি (Ek) স্থির থাকে।

5. গ্যাসের চাপ :
             অবিরাম স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষের মাধ্যমে গ্যাসাধারের দেয়ালে প্রতি একক ক্ষেএফলে গ্যাস অনুগুলোর প্রয়োগকৃত বলকে গ্যাসের চাপ বলে।

♦ গ্যাস মিশ্রণের আংশিক চাপ :
কোন গ্যস মিশ্রণ যে আয়তন দখল এর একটি উপাদান গ্যাস এ একাকী ঐ আয়তন দখল করে যে চাপ প্রয়োগ করে তাকে আংশিক চাপ বলে।
 
6. গ্যাসের অনুর গতিশক্তি :
                    গ্যাসের অনুগুলোর গড় গতিশক্তি সংশ্লিষ্ট গ্যাসের কেলভিন তাপমাত্রার সমানুপাতিক। যদি কোন আদর্শ গ্যাসের আয়তন V, এর চাপ P, প্রতিটি গ্যাস অনুর ভর m, অনুর সংখ্যা N এবং গ্যাস অনুুর বর্গমূল গড় বর্গবেগ c, হয় তবে;
               PV = mNc^2÷3 
এটি আদর্শ গ্যাসের গতীয় সমীকরণ।

★ আনবিক সংঘর্ষ ও সংঘর্ষ ব্যাস :
                          গ্যাসের আনবিক সংঘর্ষ বুঝতে হলে আনবিক ব্যাস, আনবিক সংঘর্ষ ব্যাস ও গড় মুক্ত পথ এ তিনটি ধারনা থাকা প্রয়োজন।
দুটি অনুর সম্ভাব্য নূন্যতম দূরত্বে এসে এদের মধ্যে বিকর্ষণের কারনে বিপরীত দিকে ফিরে যাওয়াকে আনবিক সংঘর্ষ বলে।
দুটি সংঘর্ষের মধ্যবর্তী দূরত্বসমুহের গড় মানকে গ্যাস অনুর গড় মুক্ত পথ বলে।

প্রতিটি আনবিক সংঘর্ষকালে উভয় অনুর কেন্দ্রবিন্দুর নূন্যতম দূরত্বকে সংঘর্ষ ব্যাস বলে। সংঘর্ষ ব্যাসকে সিগমা দ্বারা প্রকাশ করা হয়। আনবিক
ব্যাস থেকে সংঘর্ষ ব্যাস একটু বড় হয়।  অধিকাংশ গ্যাসের ক্ষেএে ব্যাসের মাএা 2A হয়।

বিজ্ঞানীরা গ্যাস অনুগুলোর গতিবেগকে তিনভাগে প্রকাশ করেছেন। যথা :

1. বর্গমুল গড় বর্গবেগ : RMS - Root mean squre velocity

2. সাধারন গড়বেগ : Average velocity

3. সম্ভাব্য বেগ : Most probable velocity

ব্যাখা :

1.  বর্গমূল গড় বর্গবেগ বা RMS বেগ :
               কোন গ্যাসের অনুসমূহের গতিবেগের বর্গের গড় মানের বর্গমূলকে গ্যাস অনুগুলোর RMS বেগ বলে। একে c দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

তাপমাত্রা দেওয়া থাকলে RMS বেগের রাশিমালা হবে,

2. গড় বেগ : 
         কোন গ্যাসের অনুগুলোর বিভিন্ন গতিবেগের পাটিগণিতীয় গড় মানকে ঐ গ্যাসের অনুগুলোর গড় গতিবেগ বলা হয়। গড় গতিবেগকে c বার দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

তাপমাত্রা দেয়া থাকলে এর রাশিমালা  হবে :

4.  সম্ভাব্য বেগ :
           গ্যাসের অনুগুলোর সংঘর্ষের কারনে কোন একটি নিদিষ্ট মুহূর্তে একটি বিশেষ বেগ লাভ করে। বিশেষ মুহূর্তের এই বেগকে সম্ভাব্য বেগ বলে। একে আলফা দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

তাপমাত্রা দেয়া থাকলে এর রাশিমালা হবে :
                    

Labels: